বোরখা পরে হিন্দুদের সাথে বিশ্বাষঘাতকতা



ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রসারের ইতিহাস  (পর্ব-)

রোহতাস দূর্গের রাজা হরেকৃষ্ণ রায় শেরশাহের বন্ধু ছিলেন। ১৫৩৭ সালে হুমায়ন শেরশাহের বিরুদ্ধে অভিযান করেন। সেই সময় শেরশাহের হারেমে ১০০০ রমনী ছিল এবং তারা সবাই চুনারগড় দূর্গে বাস করত। চুনার গড় দূর্গ ততটা সুরক্ষিত নয় তাই শেরশাহ রাজা হরেকৃষ্ণ রাহকে অনুরোধ করলেন হারেম শুদ্ধ তার পরিবারকে আশ্রয় এবার জন্য। এর আগে রাজা শেরশাহের ছোট ভাই মিয়া নিজাম ও তার পরিবারকে রোহিতাস দূর্গে আশ্রয় দিয়ে উপকার করেছিলেন। কিন্তু রাজা চট করে শেরশাহের প্রস্তাবে সম্মতি দিতে পারলেন না। তার ইতস্ততঃ ভাব দেখে শেরশাহ কোরান ছুয়ে শপথ করেন এবং এর ফলে রাজা রাজা তাকে আশ্রয় দিতে রাজী হন। কিন্তু সেই মূর্খ রাজার জানা ছিলনা যে, কোরান হিন্দু ধর্মগ্রন্থের মত নয়। কোরানে আল্লাহর নির্দেশ আছে, বিধর্মী অমুসলমান কাফেরদের সঙ্গে যেকোন রকম মিথ্যাচার, ছলনা ও বিশ্বাষঘাতকতা করা যায়। ফলে সেই রাতেই শেরশাহ রোহতাস দূর্গ দখলের ছক করে ফেললেন। ১২০০ ডুলি সাজানো হল এবং প্রত্যেক ডুলিতে দু'জন করে পাঠান সৈন্য বোরখা পরে অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বসে রইল। প্রথম কয়েকটা ডুলিতে কিছু মহিলা ছিল । তাই দূর্গের রক্ষীরা প্রথম কয়টা ডুলি পরীক্ষা করে চক্রান্ত বুঝতে পারলো না। এদিকে শেরশাহ রাজার কাছে খবর পাঠালেন যে, তার রক্ষীরা ডুলি পরীক্ষা করে মুসলমান রমনীদের অসম্মান করছেন । কাজেই ডুলি পরীক্ষা বন্ধ হল এবং প্রায় আড়াই হাজার আফগান সৈন্য দূর্গের মধ্যে ডুকে পড়ল। মূহুর্তে আরা আক্রমন করে কারারক্ষীদের হত্যা করলো এবং দূর্গ দখল করে নিল। রাজা হরেকৃষ্ণ রায় কোন মতে গুপ্ত পথ দিয়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করলেন । [Elliot & J.Dowson, IV,p-361]

শেরশাহের বাল্য নাম ছিল ফরিদ খা। প্রথম জীবনে তিনি দস্যুদের নেতা ছিলেন। এই দস্যুবৃত্তির কাজ কিভাবে হত ? ঐতিহাসিক আব্বাসের বর্ণনা অনুসারে, "তিনি তার ঘোড়াসাওয়ারদের সর্বক্ষন গ্রামের চতুর্দিকে পাহারা দিতে বলেন। সমস্ত পুরুষদের হত্যা করতে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করতে হুকুম দিলেন। সমস্ত গরু-বাছুর তুলে আনতে চাষ-আবাদ বন্ধ করতে এবং ক্ষেতের ফসল বিনষ্ট করতে হুকুম দিলেন। গ্রামের কোন লোক পাশাপাশি কোন গ্রাম হতে কিছু যাতে না আনতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে আদেশ দিলেন।"
১৯৭১-এ বাংলাদেশে ইয়াহিয়া বাহিনী একই নীতি অনুসরণ করেছিল।
হাসান খার অধীনে অনেক আফগান চকরী করত। তাদের কোন জমি জায়গা বা জায়গীর ছিল না। প্রথমে ফরিদ খা সেই সব আফগানদের জায়গীরের প্রলোভন দেখিয়ে অন্যত্র করে ছোটখাট একটা দস্য দল গঠন করলেন। তখন বিহারে আরও অনেক আফগান বাস করত। ফরিদ খা সেই সব স্বজাতীয় আফগানদের আহ্বান জানান তার দলে যোগ দেবার জন্য---"যার ঘোড়া আছে সে ঘোড়ায় চড়ে এবং অন্যান্যরা পায়ে হেটে আমার দলে যোগ দাও "
জায়গীর ও লুটের মাল পাবার লোভে তারাও এসে যোগ দিল। এই দল নিয়ে ফরিদ খা জমিদার ও বিত্তশালী হিন্দুদের টাকা পয়সা সহায় সম্বল লুটপাট করতে শুরু করে দিল। এইরকম একটি আক্রমন বর্ণ্না করতে গিয়ে আব্বাস খা লিখেছেন-- " অতি প্রত্যুষে ফরিদ খা তার দল-বল নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে সেই সব জমিদারদের, ইসলামী মতে যারা অপরাধী তাদের আক্রমন করল। সব পুরুষদের হত্যা করা হল এবং বন্দী নারী ও শিশুদের ক্রীতদাস হিসেবে বেচে দিতে অথবা নিজের কাজে ব্যবহার করতে হুকুম দিল। অন্য মুসলমানদের সেখানে এনে বসতি করতে আদেশ জারি করলেন।"




"যদি কোনো গবেষক উপরোক্ত তথ্যাবলীর মধ্যে একটিও ভূল বলে প্রমান করতে পারেন, তাহলে আমরা তার কাছে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।"



এরপর...  কত হিন্দুর রক্তে নির্মান হয়েছিলো বাবরী মসজিদ ?

ভাল লাগলে শেয়ার করুন। আমাদের ফেইসবুক ফেইজে লাইক করুন www.facebook.com/mukh.mukhos

শেয়ার করতে নিচের সোসাল আইকনগুলোতে ক্লিক করুন

No comments

Powered by Blogger.